রোয়ানুর আঘাতে উপকূলীয় এলাকা কুতুবদিয়ায় ব্যাপক ক্ষতি, নিহত ৩, দশ হাজার বসতঘর বিধ্বস্থ। লক্ষাধিক মানুষ পানি বন্দি......।



ঘূর্ণিঝড় রোয়ানোর কবল থেকে নিজেদের রক্ষা করতে গিয়ে কক্সবাজার জেলার দ্বীপ কুতুবদিয়ায় ২’ব্যক্তি মারা গেছেন। জেলা প্রশাসক মো.আলী হোসেন আজ ২১ মে বিকেল৩টায় এক জরুরী সংবাদ সম্মেলনে বলেন” নিহতদের একজন মাটির ঘর চাপা পড়ে মারা গেছেন এবং অন্যজন নৌকাযোগে নিরাপদ স্থানে যাতায়াতকালীন সময় দু’টি নৌকার মাঝখানে চাপা পড়ে মারা যান। এবং অন্য একজনের লাশ সাগরের ভেসে আসতে দেখে স্থানীয়রা উদ্ধার করে স্বজনদের কাছে হস্থান্তর করে। সংবাদ সম্মেলনে পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী সাবিবুর রহমান রোয়ানের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে পাউবো’র ২৮ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে দাবি করেন। জেলায় এখনো ৬ নম্বর বিপদ সংকেত বহাল রেখেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।



ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর থাবায় দ্বীপ কুতুবদিয়ায় এখন দূর্গত মানুষের ঘরে শোয়ার স্থানতো নেই-ই। নেই রান্নার চুলাও। রোয়ানুর পানিতে সব ছারকার হয়ে গেছে। সামর্থবানরা শুকনা খাবার নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। এবং অবিলম্বে কুতুবদিয়ায় ত্রাণ প্রেরণ ও দুর্গত এলাকা ঘোষণা করে এই অঞ্চলের ভিকটিমদের কাছে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন। এ পর্যন্ত ৩ জনের লাশ এবং শতাধিক আহতের খবর পাওয়া গেছে।



পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবোর) ৭১ পোল্ডারের ৪০কিলোমিটার বেড়িবাঁেধর মধ্যে ২০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভাংগা থাকায় জোয়ারের পানি এলাকায় ডুকে ৬ ইউনিয়নের ২৫ গ্রামের ২হাজার ঘরবাড়ি বিধ্বস্থ হয়ে পড়েছে। প্রায় অর্ধ লক্ষ মানুষ গৃহহারা হয়ে আশ্রয় কেন্দ্র ও নিকটবর্তী আতœীয়স্বজনের নিকট অবস্থান নিয়েছে। উপকূলীয় এলাকার সতর উদ্দন উচ্চবিদ্যালয়ের ২টি ভবন ভেঙ্গে মূন্যবান কাগজপত্র ভেসে গেছে বলে প্রধান শিক্ষক শুক্কুর আলম আজাদ নিশ্চিত। দ্বীপে ঘূর্ণিঝড়ের সময় মালামাল উদ্ধার করতে গিয়ে ৩ জন নিহত হয়েছে। নিহতরা হলেন, উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের মোঃ ইকবাল (৩২),কৈয়ারবিল ইউনিয়নের মাষ্টার ফজলুল হক (৫৫) আলী আকবর ডেইল ইউনয়নের তাবলরচর গ্রামের শফিউল আলম (৩৬)। কুতুবদিয়ার ইউএনও সালেহীন তানভীর গাজী জানান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি,সিপিপির দল, সরকারিভাবে সতর্ক থাকায় গত শনিবার সকাল থেকে বেড়িবাঁধের বাইরে এবং ভিতরে অবস্থানরত লোকজনকে নিকটবর্তী আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে আসা হলে তেমন প্রানহানী ঘটেনি। বর্তমানে প্রত্যেক আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়া লোকজনকে শুকনো খাবার, পানীয় জল উপজেলা প্রশাসন থেকে বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়াও প্রত্যেক ইউনিয়ন পরিষদ থেকে আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়া লোকজনের নিকট শুকনো খাবার বিতরণের নির্দেশ দিয়েছেন। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী ও ইউএনও ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করেন।


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ঘুরে আসুন কুতুবদিয়া বাতিঘর

কুতুবদিয়া হতে পারে দেশের অন্যতম পর্যটন জোন

২২ মার্চ যেসব ইউনিয়নে ভোট==কুতুবদিয়া উপজেলা