সমুদ্রস্ফীতি মোকাবেলায় অক্ষম বাংলাদেশের উপকূলীয় দ্বীপগুলো








কুতুবদিয়া থানার ১নং উত্তর ধূরুং
ইউনিয়নর ৩নং ওয়ার্ডে অবস্থিত আফাজ উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ।

বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলীয় দ্বীপগুলো জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমুদ্রস্ফীতি মোকাবেলায় অক্ষম হয়ে পড়ছে। ফলে বেশিরভাগ দ্বীপই সমুদ্রে তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। যার ফলে লাখ লাখ মানুষ উদ্বাস্তু হয়ে পড়বে। এতে অতিরিক্ত জনসংখ্যার ভারে ইতোমধ্যেই নুব্জ্য হয়ে পড়া বাংলাদেশ আরো বড় বিপদে পড়তে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে চলমান জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলনেও আফ্রিকার সিসেলিস দ্বীপপুঞ্জ এবং বাংলাদেশসহ দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগর উপকুলীয় দেশগুলোর বিশাল উপকূলীয় এলাকা সমুদ্রে তলিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। ফরাসি টিভি চ্যানেল ফ্রান্স টোয়েন্টি ফোর এর অনলাইন সংস্করণে এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় সোমবার।

বাংলাদেশের পরিবেশ সচিব কামাল উদ্দিন ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমাদের রয়েছে বিশাল উপকূলীয় সীমান্ত। বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় সর্বমোট প্রায় ৩ কোটি ৯০ লাখ মানুষ বাস করে। এদের সকলকেই যদি পুনর্বাসন করতে হয় তাহলে তা হবে এক অবিশ্বাস্য বিশাল কর্মযজ্ঞ। কারণ আমাদের দেশ ইতোমধ্যেই অতিরিক্ত জনসংখ্যার ভারে নুব্জ্য হয়ে পড়েছে। আর সত্যি বলতে কি এই বিশাল সংখ্যক মানুষকে পুনর্বাসন করা সম্ভব হবে বলেও মনে হয় না। কারণ আমাদের অত ভুমি খালিও নেই’।

সমুদ্রে তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশের এমনই একটি দ্বীপ কক্সবাজারের কুতুবদিয়া। এই দ্বীপটি থেকে ইতোমধ্যেই হাজার হাজার (প্রায় ৪০ হাজার) মানুষ পাড়ি জমিয়েছে রাজধানী ঢাকা ও কক্সবাজার জেলা শহরে। এরা মূলত শহুরে ঘিঞ্জি বস্তিগুলোতে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

কুতুবদিয়ায় এখনো প্রায় ১ লাখ মানুষের বাস রয়েছে। কিন্তু তারা জানেন যে তারা সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সেখানে বসবাস করছেন। কারণ বাংলাদেশের একটি এনিজিও হুঁশিয়ারি দিয়েছে আগামী ৫০ বছরের মধ্যেই কুতুবদিয়া সমুদ্রে তলিয়ে যাবে।

জর্মানওয়াচ নামের একটি এনিজওর জরিপে দেখা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও হাইতিসহ দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় ১০টি দেশ। এছাড়াও আরো ১০টি দেশ রয়েছে এই তালিকায়।

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হওয়ার হুমকিতে থাকা দেশগুলো ভালনারেবল টোয়েন্টি বা ভি-২০ নামের একটি জোট গড়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে ধনী দেশগুলোর সংগঠন গ্রেট টোয়েন্টির বিপরীতে এই জি-২০ সংগঠনটি তৈরি করা হয়।

২০০৯ সালে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত জলবায়ু সম্মেলনে ভি-২০ নেতাদের সঙ্গে জি-২০ এর নেতারা জলবায়ূ পরিবর্তন মোকাবেলায় সহযোগিতার ব্যাপারে অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু তার একটিও আজও বাস্তাবায়িত হয়নি।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

Light House Of Kutubdia //কুতুবদিয়া দ্বীপ’ বিখ্যাত বাতিঘরের কারণে..........@

ঘুরে আসুন কুতুবদিয়া বাতিঘর

এক নজরে ৬নং আলী আকবর ডেইল ইউনিয়ন