কুতুবদিয়া দ্বীপ---তারুণ্যের সমকালীন চিন্তা
জলবায়ু পরিবর্তন এবং বৈরী প্রকৃতির অভিঘাতের কারণে বিরূপ রূপান্তর প্রক্রিয়ায় একটি জনপদের বিলীয়মান পরিণতি ও মানুষের হতশ্রী জীবনের বাস্তব ছবি কুতুবদিয়া দ্বীপ। প্যারিসে যখন বিশ্ব নেতৃবৃন্দ, পরিবেশবিদ ও বিশেষজ্ঞরা বিশ্ব উষ্ণায়ন রোধে কার্বন নিঃসরণ ও অভিযোজন ক্ষমতা নিয়ে গভীর আলোচনায় মগ্ন, তখন আমাদের বাংলাদেশের দক্ষিণে একটি ছোট দ্বীপের ক্রমশ বিলীন হওয়ার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে বার্তা সংস্থা এএফপি। ‘বাংলাদেশ আইল্যান্ড লুজিং ব্যাটেল টু স্টেস ক্লাইমেট টাইড’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত তিন দশকে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের দ্বীপ কুতুবদিয়ার এক চতুর্থাংশ বিলীন হয়ে গেছে সমুদ্রগর্ভে, জনপদ থেকে কয়েক হাজার মানুষ চলে গেছে অন্যত্র। বেসরকারি এই বার্তা সংস্থাটি সতর্ক করেছে এই মর্মে যে, আগামী ৫০ বছরে সমুদ্রগর্ভে পুরো দ্বীপটিই তলিয়ে যেতে পারে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে, পানিতে নিমজ্জিত হয়ে যাওয়া এলাকা থেকে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ ঠাঁই নিয়েছে কক্সবাজার জেলা ও অন্যত্র। দ্বীপের লোকসংখ্যা দাঁড়িয়েছে মাত্র ১ লাখে। বৈরী প্রকৃতির সঙ্গে নিরন্তর লড়াইয়ে দ্বীপবাসী দুর্বল হয়ে গেছে। সমুদ্রের করাল গ্রাস থেকে বাঁচাতে নানা প্রতিরোধ তত্পরতা এখন সুফল দিচ্ছে না তেমন।
কক্সবাজার থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে দ্বীপ কুতুবদিয়া। দ্বীপবাসীদের কৃষি একমাত্র অবলম্বন, কিছু আছে লবণ চাষ, শুঁটকি উত্পাদন, এখন চিংড়িঘের হয়েছে। সম্পন্ন জনপদ ছিল কুতুবদিয়া এক সময়। চট্টগ্রাম থেকে কুতুবদিয়া হয়ে কক্সবাজার স্টিমার চলাচল ছিল। বিগত শতকের ষাটের দশকের কয়েক দফা প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়,বন্যা, ১৯৯১-এর তাণ্ডবলীলা দ্বীপবাসীদের জীবনে মহাবিপর্যয় নিয়ে এসেছে। মৃত্যু আর ধ্বংসের বিভীষিকা আজো তাড়িয়ে বেড়ায় দ্বীপবাসীদের। উদ্বাস্তু, ছিন্নমূল হয়েছে মানুষ, যারা এখন আছে কোনোরকমে তাদেরও দফায় দফায় স্থানান্তর ঘটে।
এখন যে ভাঙন চলছে তা উন্নত প্রযুক্তি ছাড়া রক্ষা করা সম্ভব নয়। বিশ্বের যে সকল দেশের এমন অভিজ্ঞতা আছে যেমন নেদারল্যান্ড, নরওয়ে- এসব দেশের অভিজ্ঞতা নিয়ে আমাদের দ্বীপগুলোকে রক্ষা করার উপায় খুঁজতে হবে। টেকসই দ্বীপরক্ষা বাঁধ, বনসৃজন প্রতিরক্ষা ব্যূহ সুদৃঢ় করতে পারে। উপকূলীয় আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করতে হবে অধিকসংখ্যক। দ্বীপবাসীদের জন্য স্বয়ংসম্পূর্ণ জীবনপ্রণালী নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের দ্বীপাঞ্চল ও উপকূলীয় এলাকায় বাস করে ৩ কোটিরও বেশি মানুষ। অথচ বৈরী প্রকৃতি ও জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সংগ্রাম করার সক্ষমতা এই বিশাল জনগোষ্ঠীর নেই। বর্তমান বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনে আমরা তাদের দুঃখ-দুর্দশা এবং বিপদের কথা বলে দুনিয়াব্যাপী সাড়া ফেলছি, কিন্তু যাদের জন্য অভিযোজন সামর্থ্য বেশি প্রয়োজন তাদের প্রতি মনোযোগ আমাদের কম। এ পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাতে হবে
মো. রেদোয়ান হোসেন
বঙ্গবন্ধু টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, টাঙ্গাইল
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন