চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস ও সমূদ্র বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের গবেষণা- = @= উপকূলীয় অঞ্চলে টেকসই ও পরিবেশ বান্ধব বেড়িবাঁধ নিমার্ণ কৌশল উদ্ভাবন =// এম.নজরুল ইসলাম,কুতুবদিয়া


উপকূলীয় প্রকৃতিকে কাজে লাগিয়ে জৈব প্রযুক্তি নির্ভর টেকসই পরিবেশ বান্ধব বাঁধ তৈরির কৌশল উদ্ভাবনের লক্ষ্যে নেদারল্যান্ড ভিত্তিক একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে গবেষণা করছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস ও সমূদ্র বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট এর তরুণ শিক্ষক এম. শাহনেওয়াজ চৌধুরীর নেতৃত্বে একদল শিক্ষার্থী। কুতুবদিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মচারীদের জন্য বরাদ্ধ একটি এপার্টম্যান্টে অবস্থান করে এ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।
এম.শাহনেওয়াজ চৌধূরী বলেন, ইকো ইঞ্জিনিয়ানিং প্রযুক্তির মাধ্যমে সমূদ্র ভাঙন হতে উপকূল রক্ষা করা সম্ভব। এক্ষেত্রে ইকো-ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তি হচ্ছে উপকূলীয় অঞ্চলের উপকারী উদ্ভিদ ( যেমন- ম্যানগ্রোভ, সল্টমার্স জাতীয় সামূদ্রিক ঘাস প্রভৃতি) এবং শামুক -জিনুকের মত নানা ধরনের প্রাণিকে কাজে লাগিয়ে প্রাকৃতিক ব্যষ্টনি তৈরা করা,যা সমূদ্র ভাঙনের জন্য দায়ী উচ্চ শক্তির ডেউকে প্রতিহত করে উপকূলকে ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়েল মৎস্য ও সমূদ্র বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ২০১১ সাল থেকে কুতুবদিয়া-মহেশখালী দ্বীপে উপকূল রক্ষায় নেদারল্যান্ডসের “বিল্ডিং উথ নেচার” রিসার্চ প্রোগ্রামের আওতায় টেকসই জৈব প্রযুক্তি উদ্ভাবনে নানা গবেষণা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এই গবেষণায় এমন এক ধরনের জিনুকের সন্ধান পেয়েছে এ ইনস্টিটিউট (স্থানীয়ভাব কস্তুরা নামে পরিচিত) যা দিয়ে প্রাকৃতিক বাঁধ তৈরি সম্ভব। জন্মের প্রথম ৩০ দিন এ প্রাণি পানিতে ভেসে ভেড়ালেও, পরবর্তীতে এদের বৃদ্ধির জন্য এরা শক্ত ভিত্তির খোঁজ করতে থাকে। যেখানে তারা প্রাকৃতিক নিয়মে আজীবনের জন্য শক্ত হয়ে লেগে থাকে আর বড় হতে থাকে।
এদের খোলস শক্ত ক্যালসিয়াম পদার্থ দ্বারা তৈরি বলে এ প্রাণিকে শক্ত পাথরের সাথে তুলনা করা যায়। এ প্রাণি মৃত্যুর সাথে সাথে তাদের মরা খোলসে নতুন প্রাণি বেড়ে উঠে আর ধীরে ধীরে জীবিত আর মৃত প্রাণিরে সমন্বয়ে রীফ সদৃশ প্রাকৃতিক দেয়াল তৈরি করে। উপকূল রক্ষায় সুবিধা জনক স্থানে এই প্রাণি দ্বারা দেয়াল তৈরিতে নির্দিষ্ট ডিজাইনের কংক্রিটের তৈরি ভিত্তি ব্যবহার করে গবেষণা প্রক্রিয়া চলছে। যাকে আমরা রীফ সাবস্ট্রাাক্ট বলে থাকি। এই ভিত্তির উপর ধীরে ধীরে কস্তুরা বেড়ে উঠে আর কয়েক বছরের মধ্যে তা বাঁেধ রূপ নেয়।
সাধারণত এই বাঁধ সমূদ্র তীরের জোয়ার-ভাটার মধ্যবর্তী স্থানে তৈরি করা যাবে। যা ভাসমান পলি আটকিয়ে নতুন ভূমি তৈরিতে সাহায্য করবে। সল্টমার্স, ম্যানগ্রোভ ও ঝাঁও বনায়নের মাধ্যমে এ নতুন ভূমি দ্রুত ব্যবহার উপযোগী করে তুলা যাবে। পাশাপাশি এই কস্তুরা তৈরি বাঁধ সামূদ্রিক মৎস্য,বানিজ্যিক কাঁকড়াসহ নানা জলজ প্রাণির নার্সারী, বৃদ্ধি ও প্রজনন স্থল হিসেবে পরিগনিত হবে। এই বাঁেধর একটি সফল দিক হচ্ছে এটি রক্ষণাবেক্ষনে তেমন প্রয়োজন পড়েনা। সময়ের পরিক্রমায় এই বাঁধ প্রাকৃতিকভাবে আরো বেশী শক্তিশালী হয়ে উঠে এবং সমূদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে এই বাঁধও প্রাকৃতিকভাবে বৃদ্ধি পায়। এই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে শুধু উপকূল রক্ষা নয় পরিবেশ সংরক্ষণসহ জলজ খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিও সম্ভব।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ঘুরে আসুন কুতুবদিয়া বাতিঘর

কুতুবদিয়া হতে পারে দেশের অন্যতম পর্যটন জোন

২২ মার্চ যেসব ইউনিয়নে ভোট==কুতুবদিয়া উপজেলা